উন্নয়নটা কোথায়? প্রশ্ন ফখরুলের

“এ সমাজ ঠিকতে পারে না, সমাজ ঠিকবে না। রাষ্ট্রের বর্তমান যে অবস্থা এবং আজকে সরকার দেশকে যে দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাতে এ রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে পড়ছে। একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে পড়ছে। উন্নয়ন, কোথায় উন্নয়ন? যেখানে আমি হাসপাতালে আমার রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারি না, যেখানে মশক নিধনের ওষুধ আনতে পারি না, নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে পারি না সেখানে উন্নয়নটা কোথায়?’

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কে. এম. হেমায়েত উল্ল্যাহ্ আওরঙ্গজেব স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সমালোচনা করে এসব প্রশ্ন রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে আমরা বাঁচবো কি বাঁচবো না এর অনিশ্চয়তা। মানুষ শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে- ডেঙ্গু আক্রান্ত হবে কি হবে না। আমাদের সাহেবরা যারা আমাদের মাথার ওপর ছুরি দিয়ে দেশ চালাছেন তারা বলেন, ‘না সব কিছু ঠিক আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে’।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুন মাসে প্রথম যখন অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল আক্রান্ত হন তখন দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৬ জন। আজকে পত্রিকার খবরে আসছে সরকারি হিসেব অনুযায়ী ১৫ হাজার ৭৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। অথচ জুন, জুলাই, অগাস্ট- এই তিন মাস নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাহেব। তিনি কিছু জানেন না। কয়জন মারা গেছে তাও বলতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়ররা আমরা জানি কিভাবে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। তারা বলেন ডেঙ্গু গুজব। অনেকে বলেছেন এটা গুজব। এখনো তারা যে সমস্ত কথাবার্তা বলছেন, তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এদের কোনও দ্বায়িত্বশীলতা নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভাবছে তারা চিরদিন ক্ষমতায় থেকে যাবে। পারবে না। কারণ খালেদা জিয়ার শক্তি অন্য জায়গায়। দেশনেত্রীর শক্তি- এ দেশের সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবাসে। উনি কারাগার থেকে বের হবেন এবং এ দেশের মানুষ তাকে বের করবে, সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই বের করবে। সুতরাং হতাশ হবেন না। আমরা বারবার এ সংকটে পড়েছি, বিপদে পড়েছি। কিন্তু আবার ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে উঠেছি।’

জাতীয় রাজনীতিতে ‘মেধার শূন্যতা’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবী জুড়েই হচ্ছে। কেন হচ্ছে সেটা বিশেষজ্ঞরা বলবেন, আমরা যেটুকু মনে করি একটা মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে গোটা রাজনীতি, অর্থনীতির। আমার ধারণা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলেই এ পরিবর্তনগুলো রাজনীতিতে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা স্লোগান দেয়- ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই- লড়াই করে বাঁচতে চাই’। আসলে সংগ্রাম ছাড়া তো আমরা কখনোই ঠিকবো না। আজকে যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম শুধু বিএনপির সংগ্রাম না। এই সংগ্রাম দেশকে জাতিকে রক্ষা করার লড়াই। এই সংগ্রাম এই লড়াইকে অব্যাহত রাখতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, হেলেন জেরিন খান, শহিদুল ইসলাম বাবুল ও মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রমুখ।

SHARE