এই আঘাতের জবাব শেখ হাসিনাকে একদিন দিতে হবে!

আবারো ইতিহাসের একটি ঘৃন্য নজির স্থাপন করলো অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুন্ডা বাহিনী খ্যাত ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীকে নির্মুল করার জন্য বিগত দশ বছর ধরে অমানবিক জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর। কথিত যুদ্ধাপরাধের বায়ুবীয় অভিযোগে দলটির শীর্ষনেতাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বাসা থেকে তুলে নিয়ে ক্রস ফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা করেছে জামায়াত-শিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মীকে। আর গ্রেফতার-রিমান্ড, নির্যাতন, হয়রানিতো আছেই। এভাবে দশ বছর যাবত দলটির ওপর আঘাতের পর আঘাত করে যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার।

সর্বশেষ শেখ হাসিনা তার প্রতিহিংসা মিটাতে এদেশের সবচেয়ে পুরনো পত্রিকা দৈনিক সংগ্রাম অফিসে গুন্ডা বাহিনী দিয়ে নজির বিহীন হামলা-ভাঙচুর করিয়েছে। কথিত মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ নামে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা সংগ্রাম অফিসের প্রতিটি রুমে ঢুকে কম্পিউটার ও চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের কোথাও কোনো গণমাধ্যম অফিসে ঢুকে এমন হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার খবর আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এরপর, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ এদেশের একজন প্রবীন সম্পাদক। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, একজন বড় মাপের লেখকও বটে। কিন্তু, তার মতো এত বড় মাপের একজন ব্যক্তিকে শেখ হাসিনার গুন্ডা বাহিনী যেভাবে লাঞ্চিত ও অপমান করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায়ে লেখা থাকবে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগের এই তান্ডবের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শুধু নিন্দার ঝড়ই উঠছে না, মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি চরম ঘৃনাও প্রকাশ করছে।

সচেতন মানুষ মনে করছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ ছাড়া একটি গণমাধ্যমের অফিসে ঢুকে এমন নজির বিহীন হামলা-ভাঙচুর হতে পারে না। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সরকার এটা করেছে। আর শেখ হাসিনা যদি মনে করে যে ক্ষমতা আর কখনো ছাড়তে হবে না তাহলে সেটা হবে তার চরম ভুল। ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। শেখ হাসিনাকেও একদিন ক্ষমতা ছাড়তে হবে। আর প্রতিহিংসার আগুন যেভাবে জ্বালিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনাকেও একদিন এই আগুনে জ্বলতে হবে। ভিন্ন মতের ওপর আজ যেভাবে আঘাত করা হচ্ছে শেখ হাসিনাকেও প্রতিঘাতের জন্য একদিন প্রস্তুত থাকতে হবে।

SHARE