কামাল-ইনু-অলি-বি.চৌধুরীদের নির্বাচনি ব্যয় নেই!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ ও কর্নেল অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিটি)সহ সাতটি রাজনৈতিক দল কোনো টাকা ব্যয় করে নি।
এছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের চেয়ে ব্যয় বেশি করেছে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদ নির্বাচনে দলীয় ব্যয়ের বিবরণ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদে এলডিপি ৮ জন প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে ৪ জন জোটের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে, বিকল্পধারা ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকায় ৩ জন, জাসদ ১১ প্রার্থীর মধ্যে নৌকা নিয়ে ৩ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ২৪, গণফোরাম ২৮ প্রার্থীর মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে ৭, গণতন্ত্রী পার্টি ৬ ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এদের পেছনে দল থেকে কোনো টাকা খরচ করা হয়নি। সবাই নিজস্ব টাকা দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল আর ব্যয় দেখিয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার ২১২ টাকা।
ব্যয়ের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। ৫৭ জন প্রার্থী দিয়ে দলটি ব্যয় করেছে ১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বিএনিপি ব্যয়ের দিক দিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১ কোটি ১১ লাখ ৩৯ হাজার ১২০ টাকা ব্যয় করেছে দলটি।
চতুর্থ স্থানে থাকা আওয়ামী লীগ ২৬০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১ কোটি ৫লাখ ৫৭ হাজার ৬৩৮ টাকা।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৮ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ১ কোটি ১৪লাখ টাকা।
সবচেয়ে কম ব্যয় করেছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)। দলটি ১ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ২ হাজার টাকা।
এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২০ টাকা, জাতীয় পার্টি (লাঙল) ৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৬০ টাকা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৭০ লাখ ২৪ হাজার ৭০০টাকা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪৬ টাকা ব্যয় করেছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ জন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ, সর্বোচ্চ ১০০ প্রার্থীর জন্য দেড় কোটি, সর্বোচ্চ ২০০ প্রার্থীর জন্য তিন কোটি এবং ২০০ এর বেশি প্রার্থী দিলে সংশ্লিষ্ট দল সর্বোচ্চ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে।
আরপিও’র ৪৪ সিসিসি (৫) দফা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সতর্ক করে ৩০ দিন সময় দেবে ইসি। এর মধ্যে কোনো দল হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে কমিশন চাইলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে আরও ১৫ দিন সময় দিতে পারে। এই ১৫ দিনের মধ্যেও যদি কোনো দল হিসাব জমা না দেয়, তাহলে চাইলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলই ভোটে অংশ নেয়। গাইবান্ধা-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১ হাজার ৮৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে ১ হাজার ৭৩৩ জন প্রার্থী ৩৯টি রাজনৈতিক দলের। অবশিষ্ট ১২৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন

SHARE